ভালোবাসার কোনো সীমানা নেই। ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্বকে অতিক্রম করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়নের উত্তর নাঠই এলাকার মো. সুমন ইসলাম (সোহেল) এবং মালয়েশিয়ার তরুণী নূর হেদায়া নুর হিসাম।
জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, আর সেই বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রেমে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর দুই বছর আগে মালয়েশিয়ায় ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সুমন ইসলাম পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে আসেন। এ উপলক্ষে বুধবার (৩ জুন) তাদের বৌভাতের আয়োজন করা হয়। বিদেশি পুত্রবধূকে একনজর দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় করেন।
সুমন ইসলাম জানান, তার স্ত্রী এখন কিছুটা বাংলা বলতে পারেন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতসহ বিভিন্ন বাংলা শব্দ ও বাক্য শিখেছেন এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন।
বাংলাদেশে এসে নূর হেদায়া নুর হিসাম বলেন, “এ দেশের সংস্কৃতি, মানুষের আন্তরিকতা ও পারিবারিক পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করেছে। প্রথমবার বাংলাদেশে এসে খুব ভালো লাগছে। ভবিষ্যতেও আবার এখানে আসতে চাই।”
সুমনের মা বলেন, “ছেলের পছন্দের মেয়েকে আমরা পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করেছি। বিদেশি পুত্রবধূ পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত।”
স্থানীয়দের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া এই সম্পর্ক আজ সফল দাম্পত্য জীবনে পরিণত হয়েছে। দুই দেশের দূরত্ব ও সংস্কৃতির ভিন্নতাকে জয় করে গড়ে ওঠা এ ভালোবাসার গল্প এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রেম, বিশ্বাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক প্রমাণ করেছে— সত্যিকারের ভালোবাসা কোনো সীমান্ত মানে না।