হজযাত্রীদের শতাধিক লাগেজ কেটে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগকে ‘অসত্য’ বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, বিমান কর্তৃপক্ষের তদন্তে ১৫০টি লাগেজ চুরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ২১টি লাগেজ কাটা বা ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা সৌদি আরবে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমান সময়ে নানা ধরনের অপতথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জেদ্দা থেকে আসা সংশ্লিষ্ট হজ ফ্লাইটে মোট ৮৩৬টি লাগেজ পরিবহন করা হয়েছিল। তদন্তের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রাউন্ড স্টাফরা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, এর মধ্যে ২১টি ব্যাগ কাটা বা ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এসব ব্যাগ থেকে কোনো মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়েছে—এমন তথ্য বা অভিযোগের সত্যতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত লাগেজগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জেদ্দা থেকে দেশে ফিরে আসা একটি হজ ফ্লাইটের প্রায় দেড়শ’ যাত্রীর লাগেজ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করা হয়েছে—এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগটি ভাইরাল হওয়ার পর বিমান কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘১৫০টি লাগেজ চুরি’ হওয়ার তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত লাগেজগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।