1. admin@daynikdesherkotha.com : Desher Kotha : Daynik DesherKotha
  2. arifkhanjkt74@gamil.com : arif khanh : arif khanh
ধর্মপাশায় বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের মহোৎসব  – দৈনিক দেশেরকথা
মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’র প্রায় ৪ হাজার সদস্য রবীন্দ্রজয়ন্তীতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের শপথ, ধুতি-পাঞ্জাবিতে মোদির ঘোষণা অনুনমোদিত বৈশাখী মেলা ভেঙে দিলেন এমপি বরিশাল সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকের সাথে ছাত্রদল নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ কুবিতে আইকিউএসির নবীন বরণ: দ্বিতীয় দিনে বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের অংশগ্রহণ বরিশালে ‘কৃষি প্রযুক্তি ও পুষ্টিমেলা’ উদ্বোধন নোয়াখালী শহরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ: ১০ নেতার পদত্যাগ, নাছিরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা  শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ১৫ বছর, ফাইল পাচার ও বদলি বাণিজ্যে বেপরোয়া এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী​ সিরাজগঞ্জে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে আত্মহত্যা? চিরকুটে উঠে এলো কিশোরীর শেষ কথা নুসরাত তাবাসসুমের নামে গেজেট প্রকাশে সিদ্ধান্ত, সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষায় ইসি

ধর্মপাশায় বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের মহোৎসব 

রবি মিয়া
  • প্রকাশ বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও জবাবদিহিতাহীনতার চর্চা। শিক্ষক অনুপস্থিতি, সময়মতো স্কুল না খোলা, জাল হাজিরা এবং রাজনৈতিক প্রভাবে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

স্কুল সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে সহকারী শিক্ষক পর্যন্ত জড়িয়ে পড়েছেন এই অনিয়মে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কিছু কর্মকর্তা প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্যভাবে এসব অনিয়মকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন।

গত ২০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসনের অফিসার (টিও) মানবেন্দ্র ও এটিও সাজ্জাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, প্রধান শিক্ষিকা শেলী ১৯ এবং ২০ নভেম্বর সরকারি ছুটিতে ছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ১৯ তারিখের হাজিরা খাতায় শেলীর উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, প্রধান শিক্ষিকাকে রক্ষার জন্যই হঠাৎ করে ‘বেআইনি ছুটির কাগজ’ তৈরির চেষ্টা হয়।

২১ শিক্ষার্থীর জন্য ৫ শিক্ষক, তবু ক্লাস নেই

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা মাত্র ২১ জন। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা একজন ছাড়া কাগজপত্রে উপস্থিত দেখানো হয়েছে আরও চারজন শিক্ষককে। কিন্তু বাস্তবে প্রতিদিন দুই থেকে তিন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও রোলকল নেওয়া হয় না।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর শিক্ষক অনুপস্থিতি ও হাজিরা জালিয়াতির মাধ্যমে চলেছে বিদ্যালয়টি।

সহকারী শিক্ষক মেহেদী হাসান ডালির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র সহকারী শিক্ষক মেহেদী হাসান ডালি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আগাম সাত দিনের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে যান। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ে না এসেও ‘উপস্থিত’ দেখিয়ে সুবিধা নেন।

১২ নভেম্বর বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী আনিসুল হকের পথসভায় তার অংশগ্রহণের কথাও স্থানীয়রা উল্লেখ করেন, অথচ ওইদিনও হাজিরা খাতায় তার উপস্থিতি দেখানো হয়েছে।

ডালি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এগুলো মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য সাজানো। আমি স্কুলে যাই, তবে দুইটা আড়াইটার সময় চলে আসি।”

ধর্মপাশা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র বলেন, বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে পূর্বেও অভিযোগ উঠেছিল, তখন সতর্ক করা হয়েছিল। নতুন অভিযোগের তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও দাবি করেন, বিদ্যালয়টি বাতিল করার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থায় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছায়া

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিকভাবে প্রভাবশালী কোনো শিক্ষক হলে দায়িত্ব পালনে আরও গাফিলতি বাড়ে। আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেয় না। এতে শিক্ষার মান ভেঙে পড়ছে, অভিভাবকদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে, আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষক অনুপস্থিতি, জালিয়াতি, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় না আনলে অনিয়ম বন্ধ হবে না।

স্থানীয়রা মনে করেন, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় যদি জাতীয় নীতিমালার বাইরে থেকে প্রভাব, ক্ষমতা ও রাজনীতির ছায়ায় চলে, তার মূল্য দিতে হয় পুরো জাতিকে। তাই বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ঘটনা কেবল একটি এলাকার সমস্যা নয়, বরং বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক দুরবস্থার প্রতিচ্ছবি।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
এই সাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।কপিরাইট @২০২০-২০২৫ দৈনিক দেশেরকথা কর্তৃক সংরক্ষিত।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park