পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একের পর এক জাহাজে হামলার খবরের মধ্যেই এবার দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই দিনে আরও তিনটি কনটেইনার জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো।
বুধবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানায়, আইআরজিসির নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ আটক করে সেগুলোকে ইরানের উপকূলে নিয়ে গেছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, জব্দ করা জাহাজ দুটি হলো ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ এবং ‘এপামিনোডস’। প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া চলাচল এবং নেভিগেশন সিস্টেমে কারচুপির অভিযোগে জাহাজ দুটি আটক করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই জাহাজগুলোর কর্মকাণ্ড সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। ফলে প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে আইআরজিসি এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, বুধবার ভোরেও তিনটি কনটেইনার জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি জাহাজের ক্যাপ্টেন জানান, কোনো ধরনের আগাম রেডিও সতর্কতা ছাড়াই একটি আইআরজিসি গানবোট অতর্কিতে জাহাজটির খুব কাছাকাছি এসে গুলিবর্ষণ শুরু করে। ওই গানবোটে তিনজন ব্যক্তি ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, হামলার ফলে জাহাজগুলোর কমান্ড ব্রিজ বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নাবিক ও ক্রু সদস্যরা অক্ষত রয়েছেন এবং সবাই নিরাপদ আছেন। আক্রান্ত জাহাজটির নাম ও পরিচয় সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে এমন ঘটনা ঘন ঘন ঘটতে থাকলে বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।