সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পেলে দুর্নীতি কমে আসার কথা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে পুনর্বিবেচনা করা হয়নি এবং প্রায় ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক সময় স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তেল, গ্যাস ও সারের মজুত বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জ্বালানি ও কৃষি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাজেট প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত দেড় দশকে উপস্থাপিত বাজেটগুলোতে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। তিনি মনে করেন, মাত্র দেড় থেকে দুই মাসের প্রস্তুতিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাজেট তৈরি করা কঠিন। তবুও বর্তমান সরকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করেছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে বাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন। নীতিগত সংস্কার ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার নৈতিকতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনায় রেখে টেকসই ও কার্যকর উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলেও তিনি জানান।