গাজীপুরের শ্রীপুরে সুদের টাকা পরিশোধ করার পরও এক ভাড়াটিয়ার বাড়ীতে ঢুকে হামলা, লুটপাট ও চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীকে পৈশাচিক কায়দায় মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল সোমবার (৪ মে) রাতে শ্রীপুর পৌরসভার উজিলাব এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মোঃ টুটুল মিয়া (৪২) জানান, তিনি প্রতিবেশী শিল্পি আক্তারের নিকট থেকে ৭০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। গতকাল বিকেল ৫:৩০ মিনিটে সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে পাওনা টাকাসহ মোট ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা তিনি পরিশোধ করেন। কিন্তু এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই রাত ৮টার দিকে পাওনাদার শিল্পি আক্তার, তপন মিয়া ও তাদের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে টুটুল মিয়ার ভাড়া বাসায় অনাধিকার প্রবেশ করে।
তারা টুটুলের কাছে দাবি করা অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় বিবাদীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।
বাবার আর্তচিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন বড় মেয়ে প্রিয়া আক্তার (১৯), মেজো মেয়ে রিয়া মনি (১৬) এবং ছোট মেয়ে মাহি (১০)। এসময় হামলাকারীরা তিন বোনকেই মারধর করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১নং বিবাদী মোঃ তপন মিয়া ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রিয়া আক্তারের তলপেটে উপর্যুপরি লাথি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বর্তমানে তিনি শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুরুতর আঘাতের কারণে তার গর্ভপাত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
হামলাকারীরা শুধু মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩নং বিবাদী শিল্পি আক্তার মেজো মেয়ের গলা থেকে ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন এবং ৪নং বিবাদী নূরুন্নাহার ঘরের বিছানার নিচ থেকে নগদ ৮০ হাজার টাকা লুটে নেন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
ভুক্তভোগী টুটুল মিয়া বর্তমানে তার মেয়েদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন:
আমি পাওনা টাকা সব মিটিয়ে দেওয়ার পরেও তারা আমার মেয়েদের ওপর এই অমানুষিক নির্যাতন চালালো। আমার অনাগত নাতি/নাতনি আজ মৃত্যুর মুখে। আমি এর বিচার চাই।”
শ্রীপুর থানা সূত্র জানায়, এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।