বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন মাতৃত্ব ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন এক অকপট বক্তব্যে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তিনি নিজের শরীর, অনুভূতি এবং সিদ্ধান্তের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতেই রাখতে চান।
দীপিকা বলেন, সন্তানধারণ ও মাতৃত্ব কোনো চাপ বা তাড়াহুড়োর বিষয় নয়। এটি একজন নারীর ব্যক্তিগত প্রস্তুতি, মানসিক স্থিতি এবং শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তার মতে, মাতৃত্বের মতো বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীর মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা। তাই তিনি বিশ্বাস করেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত অধিকার একজন নারীরই থাকা উচিত, কারণ পুরো পরিবর্তনের ধাক্কা তাকেই সামলাতে হয়।
অভিনেত্রী আরও জানান, এই বিষয়ে স্বামী রণবীর সিং সবসময় তাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। তবে দীপিকা স্পষ্ট করে বলেন, সম্পর্কের মধ্যে সমর্থন ও বোঝাপড়া থাকলেও শরীরের পরিবর্তন, শারীরিক ঝুঁকি এবং মানসিক চাপ একজন নারীই সবচেয়ে বেশি বহন করে। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও তার হাতেই থাকা উচিত। নিজের শরীর ও জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কোনো আপস করতে চান না বলেও জানান দীপিকা।
মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দীপিকা বলেন, প্রথমবার মা হওয়ার সময় তার জীবন একেবারেই বদলে যায়। শারীরিক জটিলতা ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে গেলেও সেই সময়টি তার কাছে ছিল শেখার এবং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের এক গভীর অধ্যায়। বর্তমানে তার জীবনের অগ্রাধিকারও বদলে গেছে, যেখানে সন্তানের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দীপিকার এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে নারীর স্বাধীন সিদ্ধান্ত এবং মাতৃত্বের অধিকার নিয়ে। অনেকেই তার অবস্থানকে সাহসী ও সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করছেন। মাতৃত্বকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরে দীপিকার এই মন্তব্য সমাজে নারীর স্বাধীনতা ও অধিকার নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।