প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মদ, সিগারেট ও বিলাসী পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করায় বিরোধী দল অসন্তোষ প্রকাশ করছে এবং বাজেটের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানোর বিষয়টি তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমান বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ৩৭টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর হ্রাস করা হয়েছে। কিন্তু বিরোধী দল এই ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ না করে শুধুমাত্র মদ, সিগারেট ও কিছু বিলাসী পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আনছে। এর মাধ্যমে তারা সাধারণ জনগণের স্বার্থের চেয়ে বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষিজমিকে উৎপাদনের আওতায় আনা, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ কারণে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সাধারণ মানুষের দল হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিশ্বাস করে। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সহায়তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে তারা সহজে কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারেন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হন।
পথসভায় উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পাতলী খালের ঐতিহাসিক গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সময়ের ব্যবধানে খালটির নাব্যতা কমে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে দখল হয়ে পড়ে। পুনঃখননের মাধ্যমে খালটি আবারও কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, সারা দেশে ব্যাপক পরিসরে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে কৃষিকাজ সহজ হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। কৃষক লাভবান হলে দেশও লাভবান হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।