কক্সবাজার সফরে গিয়ে বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ দুই যুগ পর কক্সবাজার সফরে এসে নিজের কর্মসূচির শুরুতেই এই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তাকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই কক্সবাজারের পিএমখালী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দর থেকে পাতলী খাল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।
ঐতিহাসিক এই পাতলী খাল দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি বহন করে। ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, সেচব্যবস্থা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই পিএমখালীর পাতলী খাল খনন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে জিয়াউর রহমান নিজে এই খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পাতলী খাল পুনঃখনন শুধু একটি স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি দেশের বৃহত্তর পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনারও অংশ। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের একটি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খালের পাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানি সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর রাতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।