আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন পুলিশ বাহিনীকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে লক্ষ্যে পুলিশকে নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল বা শক্তি যেন পুলিশকে দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উদ্বোধন শেষে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এই রাজারবাগ পুলিশলাইনেই হানাদার বাহিনী বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যারা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, সেই স্বাধীনতাকে যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের পেশাদারিত্ব ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে, একটি স্বাধীন ও পেশাদার বাহিনীর পক্ষে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল কাজ। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ বাহিনী তাদের সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পুলিশ শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা অর্জন করেছে। বিদেশের মাটিতে অর্জিত সুনাম দেশের অভ্যন্তরেও বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে পুলিশের আচরণ মানবিক ও জনবান্ধব হবে বলেও প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বর্ণিল প্যারেড ও সালাম গ্রহণের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই আয়োজনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।