ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক ইসলামি দল ও সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করছে বিএনপি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করে এগোতে হলে আলেম-ওলামা ও ইসলামি সংগঠনগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপির নেতারা দাবি করছেন, হেফাজতে ইসলাম, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন এবং ছারছীনা দরবার শরিফের পীরের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়; বরং সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের অংশ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব যোগাযোগ আসন্ন নির্বাচনে জোট বা সমঝোতার ইঙ্গিত বহন করছে।
হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ছারছীনা দরবার শরিফে পীরের সঙ্গে একান্ত বৈঠক এবং জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়—সব মিলিয়ে বিএনপির লক্ষ্য আলেম সমাজ ও ইসলামি ভোটব্যাংকের সমর্থন অর্জন। জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের দাবি অনুযায়ী, তারা ২০ হাজার দরবার, ২০ হাজার প্রতিষ্ঠান ও ৫৫ লাখ ছাত্রছাত্রীর প্রতিনিধিত্ব করে, যা দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সব জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং গণতান্ত্রিক ধারায় দেশ পরিচালনা করা। রমজানের আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হওয়ার ঘোষণার পর দলটি যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র দল, ইসলামপন্থি সংগঠন ও বামপন্থি দলগুলোকেও নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো সমঝোতার পরিকল্পনা আপাতত নেই।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচনের ঘোষণাকে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল স্বাগত জানিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি বড় দল হিসেবে নির্বাচনে জোট গঠনের মূল কেন্দ্রে থাকবে, আর এই প্রক্রিয়ায় ধর্মভিত্তিক প্রভাবশালী দলগুলোর সমর্থন তাদের জন্য কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনতে পারে।