দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছর পার হলেও দেশে এখনো দ্বিতীয় কোনো রিফাইনারি গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমানে বিশ্বের পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা এখন জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। দেশে একমাত্র ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে সীমিত পরিমাণে তেল পরিশোধন করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে চাহিদার বড় অংশই উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় রিফাইনারি না থাকায় দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে নির্ভরশীলতা ও ঝুঁকি আরও বাড়ছে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল সম্পর্কিত উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে সংকট বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে।
প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি যেহেতু সমুদ্রপথনির্ভর, তাই নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি জাতীয় সমস্যা এবং এর সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি যুদ্ধ করার জন্য নয় বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর ৪৫ জন ফেলোকে সনদ প্রদান করা হয়। এতে সংসদ সদস্য, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক ও বিভিন্ন খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।