চাঁদাবাজিকে ভিক্ষার চেয়েও নিকৃষ্ট আখ্যা দিয়ে এ কার্যক্রম বন্ধ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যারা নিজেরা এই কাজ থেকে সরে আসবে না, তাদের লাল কার্ড দেখানো হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজদের ভালো পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা ব্রিজ এলাকায় আয়োজিত জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে হলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’-কে জয়যুক্ত করতে হবে। দেশের মানুষ আর বস্তাপচা রাজনীতি চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজ ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে—তারা দুর্নীতিমুক্ত, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চায়। যারা জনগণের ভাষা বুঝতে পারে না, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতি তাদের সেই ভাষা বুঝিয়ে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই দেশে এখন একটি নতুন পেশা ভালোভাবে চলমান, সেটি হলো চাঁদাবাজি। যারা এ পেশার সঙ্গে জড়িত, তাদের হালাল পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত তাদের জন্য হালাল রোজগারের ব্যবস্থা করে দেবে। তবে এই অবৈধ পথ পরিহার না করলে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত নিজে চাঁদাবাজি করবে না এবং কাউকেও করতে দেবে না।
কওমি শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, কওমি মাদরাসাগুলোকে প্রত্যেক সরকারই অবহেলা করেছে, অথচ তারাও এ দেশের নাগরিক। সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকার যদি পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাহলে কওমি মাদরাসাগুলো কেন সে সুযোগ পাবে না—এই প্রশ্ন তোলেন তিনি। ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদরাসার নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী এ শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্মানের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির।
নগর ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এসে জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মেয়র ও কাউন্সিলরদের বছরে চারবার পচা ডোবা পানিতে গোসল করানো হবে। নগরের নদী ও জলাশয় পরিষ্কার রাখতে জনপ্রতিনিধিদের বাধ্য করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে জনপ্রতিনিধি এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবে, তাকে বরখাস্ত করা হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নারীদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হবে। জামায়াত সরকার গঠন করলে নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। ঘরে ও বাইরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং কর্মজীবী নারীদের জন্য ইভনিং বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সমাবেশে জামায়াত আমির ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেনের পক্ষে ভোট চান।