যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার তেলের দাম কমেছে। আগের দিনের বড় উত্থানের পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে—এমন আশাই তেলের দামের এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪ দশমিক ৯৪ ডলারে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ৫০ ডলারে নেমেছে। জুন চুক্তিতেও দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে সোমবার তেলের বাজারে বড় উত্থান দেখা যায়। ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করলে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানি একটি জাহাজ জব্দ করলে ব্রেন্টের দাম ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ৬ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
তবে বিনিয়োগকারীরা এখন মূলত সম্ভাব্য আলোচনার অগ্রগতির দিকে নজর রাখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে আলোচনা সফল হলে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি বাড়ানো বা একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে—এই আশাই বাজারে দাম কমার প্রভাব ফেলেছে। তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা এখনও থেকেই যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শান্তি আলোচনার আশাবাদ বাস্তব পরিস্থিতির ঝুঁকিকে আড়াল করছে। তাদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থায় যে ধাক্কা ইতোমধ্যে লেগেছে, বাজার এখনো তা পুরোপুরি মূল্যায়ন করেনি।
এদিকে পাকিস্তানে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ চলতি সপ্তাহেই শেষ হওয়ার কথা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন আলোচনায় অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হুমকির মুখে কোনো আলোচনা হবে না—এই অবস্থানে অনড় থাকবে ইরান।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় সরবরাহ ঝুঁকি এখনো বহাল রয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি প্রণালীতে বিঘ্ন এক মাস অব্যাহত থাকে, তবে প্রায় ১৩০ কোটি ব্যারেল তেলের ক্ষতি হতে পারে এবং ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রণালীর অচলাবস্থার কারণে কুয়েত তেল রপ্তানিতে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছে। উচ্চ দামের প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের চাহিদা ইতোমধ্যে প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।