রাজনৈতিক স্বার্থে গণভোট ও জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল গণভোটকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে। তবে বিএনপি সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই কাজ করছে এবং জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত বাস্তবায়ন করা হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত হন।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জনগণের রায় ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি বলেন, জান্নাতের ‘বায়বীয় টিকিট’ বিক্রিকারীরা নানা অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চেষ্টা করছে।
যশোর সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী উলাশী খালের পুনঃখনন কাজ এবং যশোর মেডিক্যাল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করা হবে।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিএনপি সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য জনগণের রায়কে অস্বীকার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। তবে দেশের মানুষ এখন এসব অপপ্রচার বুঝে গেছে এবং জনগণ বিএনপির পাশেই আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না।
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো পুনরায় শুরু করা হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া প্রায় দুই দশক আগে যশোর মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তী সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করেছে। বিএনপি সরকার সেই প্রকল্প বাস্তব রূপ দিতে কাজ করছে, যাতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পায়।
নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা আরও বাড়ানো হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের কোটি নারীকে এর আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে গৃহস্থালির জ্বালানি সুবিধা সহজলভ্য করতে এলপিজি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এছাড়া মেয়েদের শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।
কৃষি খাতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে এবং কৃষি ঋণ মওকুফ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১২ লাখ কৃষককে ঋণমুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ২ মে থেকে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫০০ খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ ও সম্মাননা দেওয়া হবে।
শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সর্বস্তরের মানুষের ঐক্য ও সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তিই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। সরকার একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতারা বক্তব্য দেন।