যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৃতীয় দফার বাণিজ্য সংলাপে অংশ নেওয়ার প্রথম দিনেই বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির আভাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের (USTR) কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন, বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক কমানো হবে এবং এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ছাড় মিলতে পারে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাউসার চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন সহকারী ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ ব্রেন্ডন লিঞ্চ।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৬০টি দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত জানায় এবং জুলাইয়ে তা কার্যকর করার ঘোষণা দেয়, যার ফলে বাংলাদেশের পণ্যে শুল্কহার ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২২–২৩ শতাংশ এবং পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে তা ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করে যে, শুধু রপ্তানি নয়, আমদানিতেও আগ্রহী। ইতোমধ্যে তারা বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার পাশাপাশি গম, সয়াবিন, এলএনজি, তুলা এবং সামরিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মার্কিন পণ্য আমদানির প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার চেষ্টার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রকে একটি অবস্থানপত্র পাঠানো হয়, যার ভিত্তিতে এই তিন দিনের আলোচনার সূচনা। আলোচনায় বাংলাদেশের যুক্তি ছিল, দেশটির সঙ্গে বর্তমানে বাণিজ্য ঘাটতি ৬ বিলিয়ন ডলারের মতো, যা ভিয়েতনামের তুলনায় অনেক কম (ভিয়েতনামের ঘাটতি ১২৩ বিলিয়ন ডলার)। এই পার্থক্য তুলে ধরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ন্যায্য ও সহানুভূতিশীল আচরণ প্রত্যাশা করছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর আগের মতো কঠোর অবস্থানে নেই। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে থাকলে সেটি অনেকটাই ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার শেষ হতে যাওয়া এই তৃতীয় দফার আলোচনা সফল হলে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।