পুষ্টিকর ফলের কথা উঠলেই অনেকের মনে আসে ব্লুবেরি, কিউই কিংবা দামি বিদেশি ফলের নাম। অথচ আমাদের পরিচিত ও সহজলভ্য পেয়ারা ভিটামিন সি, খাদ্যআঁশ, পটাশিয়ামসহ নানা পুষ্টি উপাদানের ভালো উৎস।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পেয়ারার পুষ্টিগুণ তুলে ধরেছেন লাইফস্টাইল কোচ লুক কুটিনহো। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
পেয়ারার অন্যতম বৈশিষ্ট্য এতে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় প্রায় ২২৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকতে পারে। শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা বজায় রাখা এবং কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
খাদ্যআঁশেরও ভালো উৎস পেয়ারা। প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় পাঁচ গ্রাম ফাইবার থাকতে পারে। এটি হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে, নিয়মিত মলত্যাগে ভূমিকা রাখে এবং তুলনামূলক দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে।
উদ্ভিদজাত খাবার থেকে আয়রন শোষণেও পেয়ারার ভিটামিন সি উপকারী। ডাল, শাকসবজিসহ আয়রনসমৃদ্ধ উদ্ভিজ্জ খাবারের সঙ্গে পেয়ারা খেলে শরীরে নন-হিম আয়রন শোষণ বাড়তে পারে।
এ ছাড়া পেয়ারায় রয়েছে পটাশিয়াম ও ফোলেট। পটাশিয়াম স্বাভাবিক রক্তচাপ ও পেশির কার্যক্রম বজায় রাখতে প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে ফোলেট কোষ বিভাজন, ডিএনএ তৈরি এবং লোহিত রক্তকণিকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গোলাপি জাতের পেয়ারায় লাইকোপিন নামের একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও পাওয়া যায়। এই উপাদান ফলটির গোলাপি রঙের জন্য দায়ী। তবে পেয়ারাসহ কোনো একটি খাবারকে নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
ডায়াবেটিস থাকলেও পরিমিত পরিমাণে পেয়ারা খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে জুসের পরিবর্তে পুরো ফল খাওয়া ভালো, কারণ জুস তৈরির সময় খাদ্যআঁশের একটি অংশ বাদ পড়ে যেতে পারে।
তবে ব্যক্তিভেদে খাবারের পরিমাণ ও রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া আলাদা হতে পারে। তাই ডায়াবেটিসসহ বিশেষ স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিতে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।
পুষ্টিকর খাবার মানেই যে দামি কিংবা বিদেশি হতে হবে, তা নয়। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে সহজলভ্য পেয়ারাও হতে পারে উপকারী একটি ফল।