জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরগুলোতে নেওয়া হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে চলতি মাসেই জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) ও কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন করে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকতে হবে এটি আজকের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভার পরই ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে।
বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়েই একাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বর্তমানে বিভাগীয় শহরগুলোতে পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও কেন্দ্র পাওয়া নিয়ে জটিলতা রয়েছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম থাকার কারণে পর্যাপ্ত স্লট খালি নেই। তবে জানুয়ারির দিকে ওপেন ডে (খোলা অবস্থায়) কোনো একটি সময় পরীক্ষার জন্য স্লট নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এখনো কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
আলী রেজা বলেন, ‘জরুরি একাডেমিক কাউন্সিল দেওয়ার জন্য আজকে বলা হয়েছে। দ্রুত দেওয়ার বিষয়ে আমিও বলেছি। আশা করা যায় জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভাটি এই মাসেই হবে।’
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সার্কুলার প্রকাশের সময় নিয়েও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলী রেজা জানান, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই ভর্তি-সংক্রান্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে। ফলে ফল প্রকাশের আগে সার্কুলার প্রকাশের বিষয়টি চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না।এদিকে ভর্তি পরীক্ষার ফি বাড়ানোর বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ভর্তি পরীক্ষার অন্যান্য কাঠামো নির্ধারণের পর এসব বিষয় আলোচনায় আসবে।
বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে কি না, তার সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার ইউনিট ও পদ্ধতির বিষয়টিও সম্পর্কিত বলে জানিয়েছেন তিনি। বিভাগীয় পর্যায়ে পরীক্ষা আয়োজন করা হলে কোন কাঠামোয় পরীক্ষা নেওয়া হবে তা একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) আলী রেজা আরও জানান, বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে সময়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্লট সংকট থাকায় বিকল্প সময় নিয়ে আলোচনা চলছে। এমনকি মার্চেও অনেক স্লট ইতোমধ্যে বুক হয়ে গেছে। ফলে বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা আয়োজন করতে হলে এপ্রিলের দিকেও যেতে হতে পারে।
এবিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় পর্যায়ে যেতে হলে মার্চের আগে এখানে সুযোগ কম। মার্চেও অনেক স্লট বুক হয়ে গেছে। এপ্রিলের দিকে যেতে হতে পারে। এটা একটা বিষয়। সামগ্রিক বিষয়গুলো একাডেমিক কাউন্সিলে চূড়ান্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল জাবি প্রশাসন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গত ৮ জুলাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের পদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য চারটি উপকমিটি গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম জানিয়েছিলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন এবং পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে তখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো, পরীক্ষা পরিচালনার সক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা যাচাই-বাছাই করে উপকমিটিগুলো প্রতিবেদন দেওয়ার পর ভর্তি কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিধান্ত নেয়ার কথা জানানো হয়েছিলো।