বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে শিল্পখাতে উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে ভোক্তারা শুধু পণ্যের গুণগত মান নয়, বরং উৎপাদন প্রক্রিয়ার নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশগত প্রভাবও বিবেচনা করেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) পালিতব্য বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস উপলক্ষে সোমবার (৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত পণ্য ও সেবার নিরাপত্তা, গুণগত মান এবং নির্ভরযোগ্যতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন ফোরাম (আইএএফ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন (আইএলএসি) প্রতি বছর ৯ জুন বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস পালন করে থাকে।
তারেক রহমান বলেন, উদ্ভাবন, আস্থা ও টেকসই উন্নয়ন বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। এ প্রেক্ষাপটে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) কর্তৃক দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে টেকসই ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অ্যাক্রেডিটেশন একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যা নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে পণ্য ও সেবার গুণগত মান যাচাই ও নিশ্চিত করে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন কেবল একটি সনদ নয়; এটি দেশের শিল্পখাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার একটি কার্যকর হাতিয়ার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড এ পর্যন্ত দেশে ১৬৮টি সরকারি, বেসরকারি এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ দিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পাঁচটি ক্ষেত্রভিত্তিক স্কিমের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস দেশের মান অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে নতুন গতি দেবে।