বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং একটি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলেও তিনি জানান।
সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধশিল্প, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে নীতিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা চালু করা হয়েছে। এছাড়া জাপানের ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ মডেলের আদলে দেশে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় দেশের ৬৪ জেলার জন্য ইতোমধ্যে ১৪টি সম্ভাবনাময় পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের ফলে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরসিইপি সদস্য দেশসমূহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া এবং চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
রপ্তানি নীতি ২০২৪-২০২৭ প্রণয়নের মাধ্যমে টেকসই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রচলিত বাজারের বাইরে নতুন বাজার সম্প্রসারণে ব্রাজিল, মধ্যপ্রাচ্য, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিআইএসভুক্ত দেশ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করা হয়েছে এবং বাণিজ্য উইংগুলো বাংলাদেশি পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে কাজ করছে। পাশাপাশি রপ্তানিকারকদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, কাঁচামাল আমদানিতে সহায়তার জন্য এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রি-শিপমেন্ট ঋণ তহবিল গঠন করেছে, যেখানে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।
পণ্যের বৈচিত্র্য ও রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ‘পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টস’কে ২০২৬ সালের বর্ষসেরা রপ্তানি পণ্য ঘোষণা করেছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।