ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) ঠিকাদারকে মানসম্মত ইটের খোয়া ও বালু ব্যবহারের কথা বললেও তা মানা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিসের যোগসাজশেই ঠিকাদার এই নিম্নমানের কাজ করছেন।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের “ইউপি অফিস থেকে ওয়াপদা বাঁধ” পর্যন্ত ৮০০ মিটার পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। দিসা ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৭৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৬৮ টাকা ব্যয়ে রাস্তাটি নির্মাণের দায়িত্ব পায়। এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ডিমলা সদর বাবুরহাট এলাকার আফতাবুল ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঠিকাদার ২০২৪ সালে রাস্তার কাজ শুরু করেন। শুরু থেকেই অত্যন্ত নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে ম্যাকাডাম করার সময় পশ্চিম ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক সরকার ও এলাকাবাসী ভালো ও সিডিউল মোতাবেক কাজ করার অনুরোধ করেন। কিন্তু ঠিকাদার তাদের কথা কর্ণপাত না করে রাস্তার কাজ ফেলে রাখেন। কাজের মেয়াদ ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু করেননি। সম্প্রতি রাস্তার কাজ পুনরায় শুরু হলেও ঠিকাদার পূর্বের ন্যায় নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহার করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভালো মানের বালুর বদলে একটি পুকুর থেকে তোলা মাটি মেশানো বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও, ইটভাটার সবচেয়ে নিম্নমানের ভাঙা ভেজা ইট কিনে খোয়া বানিয়ে সেগুলো রাস্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে, যা হাত দিয়ে চাপ দিলেই ভেঙে যাচ্ছে। স্থানীয়রা এসব খোয়া ব্যবহারে বাধা দিয়ে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানালেও কোনো কাজ হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার দরপত্রের শর্তানুসারে সড়কের প্রস্থ ও গভীরতাও দেননি।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন ফেডারেশন অফিসের পাশে নিম্নমানের ভাঙা ইট খোয়া করে মাটি মিশ্রিত বালি মেশাচ্ছেন এবং সেগুলো রাস্তায় ফেলছেন।
ঠাকুরগঞ্জ ও মধ্যছাতনাই গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা লিটন, রশিদ, সাইদুল, মশিউর রহমান, পরান আলী, মুজিবুর রহমান ও হরিকান্ত তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাস্তা পাকা হবে জেনে তারা খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু যে নিম্নমানের খোয়া-বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে এই রাস্তা কয়েক মাসের বেশি টিকবে না। তাদের মতে, এতে সরকারের টাকা জলে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আফতাবুল ইসলাম বলেন, “কাজটিতে তো নিম্নমানের খোয়া নেই, কারণ মাল আনতে যাইয়া যদি একটু এদিক সেদিক হয়—আমি তো আর ভাটায় যায় না। এটাকে যদি আর নিম্নমানের বলা হয়, তাহলে তো আর আমার কিছু করার নেই। প্রথমের দিকে এক-আধ গাড়ি মাল এদিক-ওদিক হতে পারে।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সফিউল ইসলাম জানান, তারা নিম্নমানের কাজের বিষয়টি জেনেছেন। ঠিকাদার ও জেলা অফিসে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শাখা কর্মকর্তা (এসও) জহিরুল আমিনের সঙ্গে কথা হলে তিনিও জানান, কাজ বন্ধ রাখার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। ‘তবুও তো ঠিকাদার কাজ করতেছে?’ এমন প্রশ্নে শাখা কর্মকর্তা বলেন, “সেটা তার ব্যাপার। তিনি বিল পাবেন না।”
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ হাসান বলেন, “আপনি তথ্য দিলেন, দেখি লোক পাঠাবো। দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।”