পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ দেবে বিজেপি সরকার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক নেতার বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ এক দশক ধরে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসা বিজেপি অবশেষে বড় জয়ের মাধ্যমে রাজ্যের শাসনভার নিতে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দাবি করেছেন, রাজ্যে প্রথমবারের মতো ‘পদ্ম’ ফুটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই বিজয়ের পেছনে একটি বড় রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো, তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের শাসনামলে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ধারাবাহিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়ন—সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় সরকারের নানা উদ্যোগে বাধা দিয়েছে তৃণমূল সরকার।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের কার্যপরিধি ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করার প্রস্তাব দিয়েছিল মোদি সরকার। তবে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করে সে সময় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তৃণমূল সরকার।
এছাড়া বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং এনআরসি ইস্যু নিয়েও রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়। কেন্দ্র সরকার আইন কার্যকরের নিয়ম জারি করলেও তা বাস্তবায়ন করতে দেননি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে বিজেপির দাবি অনুযায়ী অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া কার্যত থমকে যায়।
এদিকে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ থেকে ভূপতিনগর বিস্ফোরণ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর টানাপোড়েন দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো একাধিকবার অভিযোগ করেছিল, তদন্ত কার্যক্রমে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করছে না।
এছাড়া ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়েও দুই পক্ষের বিরোধ চরমে ওঠে।
তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যেই সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ দেবে। মূল লক্ষ্য হবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ শূন্যে নামিয়ে আনা।
বিজেপি নেতারা আরও দাবি করেছেন, সীমান্ত নিরাপত্তায় বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগও দেওয়া হবে।