সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি সরকারি খালের দখল ও মাছ শিকারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার খুঁটিকাটা-কাঠালবাড়িয়া গ্রামের সংক্রান্তির খাল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেন, বিএনপি কর্মী কবির হোসেন, শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদ, শিবির কর্মী আরাফাত হোসেন, আক্তার হোসেন, নাজমা খাতুন, মোমিন মোড়ল ও লায়লা বেগম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি সংক্রান্তির খালে জাল ফেলে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় খালটি ইজারা নিয়েছেন বলে দাবি করা আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলামের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নিলে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
অভিযোগ রয়েছে, আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পরও উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। এ সময় শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।
জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন বলেন, খালটির ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে ইজারা না থাকলেও সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছিল। স্থানীয় দরিদ্র মানুষ মাছ ধরতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি খালটির পুনরায় ইজারার জন্য আবেদন করেছেন এবং পূর্ব থেকেই সেখানে মাছ চাষ করে আসছিলেন। খালে মাছ ধরতে বাধা দিলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, এতে তাদের পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, খালটিতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরাও আহত হয়েছেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাকির হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সরকারি খালকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পরও কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।