রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে তাদের বিপক্ষে জয় পেল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। শুধু জয় নয়, এটি বাংলাদেশের নারী ওয়ানডে ইতিহাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডও।
২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে বাংলাদেশ জয় নিশ্চিত করে ৯ বল হাতে রেখেই। রাজশাহীর ঐতিহাসিক দিনে রেকর্ড এই জয় এনে দেন ব্যাটার শারমিন আক্তার, যিনি দুর্দান্ত ৮৬ রানের ইনিংস খেলেন। ১৩টি চার হাঁকানো এই ব্যাটার ছিলেন জয়ের মূল ভরসা। তবে সেঞ্চুরি থেকে ১৪ রান দূরে শারমিন আউট হতেই হঠাৎ করেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শারমিন বিদায় নেওয়ার সময় দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭ রান, কিন্তু এরপর দ্রুত আরও তিনটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচে নাটকীয়তা তৈরি হয়।
এর আগে রান তাড়ায় শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না বাংলাদেশের। মাত্র ৩৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। আগের চার ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় না পাওয়া বাংলাদেশ তখন আরেকটি হারের শঙ্কায় পড়ে যায়। তবে পরিস্থিতি সামাল দেন শারমিন আক্তার। চতুর্থ উইকেটে সোবহানা মোস্তারির সঙ্গে তিনি ৮৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। মোস্তারি ব্যক্তিগত ৪১ রানে চোট পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট নিলে শারমিন এরপর স্বর্ণা আক্তারের সঙ্গে আরও ৭৮ রানের দারুণ জুটি গড়ে দলকে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দেন।
তবে দলীয় ১৯৯ রানের সময় শারমিন এবং স্বর্ণা আক্তার (৩৫) আউট হয়ে গেলে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত বাকি ব্যাটাররা ধৈর্য ধরে ম্যাচ শেষ করে ইতিহাসের জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক জয়। এর আগে ২০০৯ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজে খুলনায় শ্রীলঙ্কাকে হারালেও সেটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি, কারণ তখন বাংলাদেশ নারী দলের ওয়ানডে স্ট্যাটাস ছিল না।
এর আগে রাজশাহীতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা তোলে ২০৫ রান। ইমেশা দুলানি ৫২ এবং হানশিমা করুণারত্নে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করে ফিফটি করেন। বাংলাদেশের হয়ে বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন রিতু মণি, যিনি ৩ উইকেট শিকার করেন।