যশোরের শার্শা উপজেলার মাঠজুড়ে এ বছর চোখে পড়ছে সবুজের অপার সমারোহ। দিগন্তজোড়া ইরি-বোরো ধানের খেতে দুলছে সবুজ ঢেউ। কাঁচা-পাকা শীষ আর বাতাসে দোল খাওয়া পাতায় প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজেছে। আর কিছুদিন পরেই কৃষকের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ঘরে তোলার অপেক্ষা। মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্য কৃষকদের মনে জাগাচ্ছে আনন্দ আর আশার আলো।
শার্শা-বেনাপোল অঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধু সবুজের মায়াবী হাতছানি। বসন্তের দখিনা বাতাসে দুলছে কচি ধানের ডগা। সেই দোলায় লুকিয়ে আছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা। চৈত্রের তপ্ত দুপুরেও সবুজ ধানক্ষেতের সতেজতা ও ঢেউ খেলানো দৃশ্য জানান দিচ্ছে—এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন কেবল সময়ের ব্যাপার।
বর্তমানে কৃষকদের ব্যস্ত সময় কাটছে জমির পরিচর্যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা ধান গাছের যত্ন নিতে মাঠে কাজ করছেন। সেচ দেওয়া, সার প্রয়োগ এবং কীটনাশক ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের ঘাটতি রাখছেন না তারা। বিশেষ করে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা থাকায় মাঠে মাঠে এমন সবুজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বোরো ধানের অবস্থা অনেক ভালো। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পরিচর্যার কারণে ফলনের সম্ভাবনাও বেশি। তারা আশা করছেন, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ধান কাটা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তারা। সে সময়ই তাদের পরিশ্রমের ফল ঘরে তোলার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে।
কৃষকেরা আরও বলেন, সরকার যদি গতবারের মতো এবারও ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করে, তাহলে তারা লাভবান হবেন এবং কৃষিকাজে আরও উৎসাহিত হবেন। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে শার্শা উপজেলায় মোট ২৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার (২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর) চেয়েও সামান্য বেশি। গত মৌসুমে ২৩ হাজার ৪১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছিল। সে তুলনায় এবার ২৪ হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সময়মতো সার সরবরাহ, কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। তবে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, প্রকৃতির অনুকূল পরিবেশ আর কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমে শার্শার মাঠজুড়ে এখন বাম্পার ফলনের স্বপ্ন বুনছে হাজারো কৃষক। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তারা।