নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় তৃতীয় বিয়ে করার অভিযোগে স্বামীকে শিকলে বেঁধে ঘরে আটকে রেখেছেন প্রথম স্ত্রী। সোমবার ভোরে জাহাজমারা ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, সামাজিক রীতিনীতি মেনে বিয়ে হয়েছিল হাসিনা বেগম ও আব্দুর রহমানের। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় উপহারও দেওয়া হয়। প্রথমদিকে সংসার ভালোই চললেও কিছুদিন পরেই শুরু হয় কলহ। সেই বিরোধ ঘিরেই স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং প্রথম স্ত্রীকে আলাদা করে রাখেন।
কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের পরও সম্পর্কের উন্নতি না ঘটায় আব্দুর রহমান আবারও তৃতীয় বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথম স্ত্রী স্বামীকে পাশের বাজার থেকে ধরে এনে নিজের ঘরে পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রাখেন এবং বাবার দেওয়া টাকা-পয়সা ফেরত চান।
এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ভিড় জমে ওই বাড়িতে। অনেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে শিকলবন্দী ব্যক্তিকে দেখতে শুরু করেন।
প্রথম স্ত্রী হাসিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করত এবং তার দেখভাল করত না। একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও সমাধান হয়নি। অধিকার ফিরে পেতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান।
অপরদিকে শিকলে বাঁধা আব্দুর রহমান দাবি করেন, তাকে ধরে এনে মারধর করা হয়েছে এবং তিনি তৃতীয় বিয়ে করেননি, যদিও দ্বিতীয় বিয়ের কথা স্বীকার করেন তিনি।
হাসিনার পরিবার জানায়, জামাই দুই বছর ধরে তাদের মেয়ের খবর নেয়নি। এখন তারা সামাজিক সমাধানের চেষ্টা করছেন এবং ছেলের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোরশেদ আলম বলেন, এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানববন্ধন ও সালিশের পরও সমাধান না হওয়া এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলেছে এবং অনেকেই দ্রুত বিচার দাবি করছেন।