দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিষয়টি তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় উপজেলা পরিষদের ভবনে যেখানে যেমন অবস্থা আছে, সেখানেই প্রয়োজনীয় আসবাব, এটাচ বাথরুমসহ এমপিদের জন্য একটি ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করার কথা বলা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী সরাসরি কক্ষ বরাদ্দ সম্ভব না হওয়ায় এ নামকরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিরোধী দিক থেকেও তিনি উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন, কারণ এতে বসার জায়গা তৈরি হয়েছে।
তবে তিনি একই সঙ্গে সংসদে এমপিদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওদের গাড়ি থাকলেও সংসদ সদস্যদের অনেক সময় ভাড়া গাড়ি ব্যবহার করতে হয়, যা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন অনেকেই। তাই মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা থাকলে কাজ করতে সুবিধা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্যে বলেন, এমপিদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান, জনপ্রত্যাশা বিবেচনায় এমপিদের আলাদা সুবিধা না নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে এবং এ নিয়ে আইন সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি যানবাহন ও জ্বালানি ব্যবহারে ব্যয় সংকোচনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পরে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্যে বলেন, সংসদে উত্থাপিত বিষয়গুলো ইতিবাচক। তিনি বলেন, ছোটদের আবদারে কঠোরভাবে ‘না’ না বলে নমনীয়ভাবে বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত। হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি হালকা রসিকতাও করেন এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান।