চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের ৭২টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৫৬টি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। গেটম্যান না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পারাপার করছে এসব ক্রসিং। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। গত এক বছরে অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ট্রেনের ধাক্কায় একাধিকবার বন্য হাতির মৃত্যুও হয়েছে।
২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্বোধন করা হয় দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন। এক মাস পর থেকেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এতে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হলেও অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
গত ১ আগস্ট রামু উপজেলার রশিদনগর এলাকায় গেটম্যানবিহীন অনুমোদিত এক ক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় একটি সিএনজি অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালকসহ চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এ ধরনের ক্রসিং পার হন।
ইসলামাবাদ–রামু সেকশনে ১৭টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে মাত্র একটি গেটে গেটম্যান রয়েছে। একই অবস্থা চকরিয়া, ডুলাহাজারা, হারবাং ও লোহাগাড়ার বিভিন্ন স্থানে। কোথাও কোথাও “নিজ দায়িত্বে পারাপার করুন” লেখা সাইনবোর্ড থাকলেও তা কার্যত কোনো কাজে আসছে না।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ এখনো প্রকল্পাধীন। ডিসেম্বরের আগে রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর সম্ভব নয়। স্থায়ী জনবল নিয়োগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় কিছু অস্থায়ী গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হলেও তা একেবারেই অপ্রতুল।
প্রকল্প পরিচালক ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সবুক্তগীন বলেন—
“দুর্ঘটনা কমাতে ৪৬টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে কর্মসূচি চলছে। সব লেভেল ক্রসিং অনুমোদিত, পর্যায়ক্রমে গেটম্যান নিয়োগ ও সিগন্যাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”
অবিলম্বে সব অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ ও সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দেশের প্রধান পর্যটন শহরের রেলপথে দুর্ঘটনা বেড়েই চলবে।