গলাচিপায় স্কুল ফিডিং এ শিশু শিক্ষার্থীদের তেঁতো স্বাদের ডিম সরবরাহ করা হয়েছে। বিয়টি সরবরাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা আমলে নেয় না। এতে ক্ষুব্দ হয়ে চারটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নষ্ট ডিমসহ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে এসে উপস্থি হন। বিষয়টি নিয়ে এলাকার শিক্ষার্থীও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন গলাচিপা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজনু মোল্লা।
এ প্রসঙ্গে রতনদী তালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে রুমান বলেন, আজ রবিবার প্রথম সিফটে আমাদের বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং এর ডিম দেওয়ার পরে অধিকাংশ বাচ্চারাই তারা ডিম নিয়ে আমার কাছে চলে আসে। তার (শিক্ষার্থীরা) জানায়, তারা ডিম খেতে পারছে না। ডিমের স্বাদ তেঁতো লাগছে। আমিও সাথে সাথে ডিমের স্বাদ নিয়ে দেখি ডিমের স্বাদ তেঁতো। এর পর আর কেউ ডিম খায়নি। তিনি আরো বলেন, আমি পাশের কয়েকটি স্কুলে যোগাযোগ করে জানতে পারি তাদের স্কুলে বিতরণকৃত ডিমের স্বাদও তেঁতো। আমি আমাদের অফিসারদের দেখাতে একটি ডিম নিয়ে আসছি। অনেকেই এটার স্বাদ নিয়ে জানায় তেঁতো লাগছে।
গোলখালী ইউনিয়নের সুহরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিনাস চন্দ্র হাওলাদার বলেন, রুটি এতো নিম্নমানে যা বাচ্চারা খেতে চায় না। অনেক সময় অল্প খেয়ে ফেলে দেয়। ধরলে গুড়াগুড়া হয়ে যায়। কোন স্বাদ নেই। এতে বাচ্চাদের এ খাবারের প্রতি অনিহা চলে আসছে। ছোট ছোট কোকিলের ডিমের মতো,এতো ছোট ডিম হওয়ার কথা না। যে মান ও পরিমাণের খাবার দেওয়ার কথা সে পরিমাণ দেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয় সাংবাদিক আবদুল গনি মিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্মিথ জেরিন সাগর বলেন, যে রুটিগুলো আমাদের কাছে দিয়ে গেছে শনিবার। আজকে বাচ্চাদের খেতে দিলে ওরা জানায় কোন স্বাদ নাই। সোলার মতো হয়ে গেছে। বাচ্চারা বিরক্ত হয়ে গেছে। বাচ্চারা খেতে চায় না।
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেল সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজনু মোল্লা বলেন, গত সপ্তাহেও উপজেলার দক্ষিণ চর বিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে খাবার পৌঁছায় না। বিকেলে চারটার পর খাবার সরবরাহ করা হয়। এতে নানান সঙ্কট সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া যথাসময় খাবার সরবরাহ না করে বিকেল ৪টার দিকে দেওয়া হলে ওইদিন শিক্ষকরা খাবার বিতরণ করতে পারে না। এটা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তিনি আরো বলেন, আজকে যে অভিযোগ দেখলাম, ডিমটা তো তাৎক্ষণিকভাবে দেখে রাখা যায় না। যেটুকু ভিজুউয়াবল সেটুকু দেখে রাখে। কিন্তু আজকে বেশ কয়েকটি স্কুলে ডিমটা রাখার পর সিদ্ধ করে খাওয়ার পর স্বাদ তেঁতো লাগছে। শিক্ষকরা নমুনা নিয়ে এখানে আসছে। আমরাও একটু বুঝার চেষ্টা করছি। এ ছাড়া এখানের ডিস্টিউবুটারের সাথে কয়েক বার সতর্ক করা হয়েছে। এখন কেন তিনি বার বার এমন করছেন তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করার বিষয়ে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার গলাচিপা শাখার এরিয়া ম্যানেজার মো.আব্দুল্লাকে একাধিবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তারা বিষয়টি কর্ণপাত করেন না। এখন বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো। পরবর্তীতে এ ধরণের কোন সমস্যা না হয় সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক থাকবো।
গলাচিপায় স্কুল ফিডিং সরবরাহকারী গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার পটুয়াখালী জেলা ম্যনেজার মুঠো ফোনে বলেন, আজকের অভিযোগগুলো আমরা শুনেছি। আগামী কাল সোমবার ওই স্কুলগুলোতে যাব। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবো অবশ্যই।