ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর তালগাছিয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, লুটপাট ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার শিকার মোঃ বাবুল হাওলাদার (৫৫) গত ২৬ জুলাই কাঠালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদীরা হলেন মোঃ হারুন অর রশিদ হাওলাদার, তার স্ত্রী মোসাঃ সালেহা বেগম, ছেলে মোঃ আব্দুল কাইউম হাওলাদার, মোঃ জাহাঙ্গীর হাওলাদার, মোঃ আব্দুল হাই সরদার, সুজন মিস্ত্রীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জন। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত ভূমিদস্যু ও মামলাবাজ হিসেবে পরিচিত। ভুক্তভোগীর দাবি, বিবাদীদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে খুন মামলাও বিচারাধীন রয়েছে, ফলে তারা আইন-কানুনের তোয়াক্কা করে না।
বাবুল হাওলাদার অভিযোগ করেন, তাদের পৈত্রিক জমি ও বসতভিটা নিয়ে চাচাতো ভাই হারুন অর রশিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তার পিতা জীবিত থাকাকালে সরলতার সুযোগ নিয়ে ১নং বিবাদী ও তার পিতা জমি নিজের অনুকূলে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। এমনকি সমমান ভিটা থাকার কথা থাকলেও তাদের পরিবারকে ছোট ভিটা বুঝিয়ে দিয়ে বড় ভিটা দখলে নেয়। পরবর্তীতে দলিলপত্র নিজের হেফাজতে রেখে হয়রানি শুরু করে।
ঘটনার দিন ২৬ জুলাই ২০২৫, দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বাবুল হাওলাদার একা ঘরে অবস্থান করছিলেন। তার স্ত্রী, পুত্রবধু ও নাতি-নাতনিরা সেদিন মেয়ের সিজার করানোর জন্য রাজাপুর হাসপাতালে ছিলেন। এই সুযোগে বিবাদীরা দলবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের চারপাশ ঘিরে ফেলে এবং বাইরে থেকে দরজা তালাবদ্ধ করে তাকে ভেতরে আটকে রাখে।
এসময় উঠানে রক্ষিত ফার্নিচারের জন্য মূল্যবান কাঠ (প্রায় ৩০,০০০ টাকা মূল্যের) লুট করে নিয়ে যায় এবং নিজেদের একটি কাচারী ঘর এনে ঘরের সামনে স্থাপন করে যাতে কেউ বের হতে না পারে। পরে পুত্রবধু এসে তাকে তালা খুলে উদ্ধার করেন। প্রতিবাদ করায় বিবাদীরা তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরে নীলাফুলা জখম করে। এরপর তারা ঘরের জানালা ও বারান্দায় ইট-পাটকেল ছুড়ে বাড়ি ভাঙচুর করে প্রায় ১০,০০০ টাকার ক্ষতিসাধন করে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, বিবাদীরা এর আগেও নারিকেল, সুপারি এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিশি মীমাংসার চেষ্টা হলেও বিবাদীরা শালিশ বসতে দেয়নি, বরং শালিশদেরও ভয়ভীতি দেখিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই বাবুল হাওলাদার ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কাঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “অভিযোগপত্র পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”