নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাঠ-ঘাট, কাঁচা-পাকা সড়ক ও গ্রামীণ হাইওয়ে এখন ধান, ভূট্টা ও খড় শুকানোর দখলে। চলতি বোরো ও ভূট্টা মৌসুমে কৃষক-কৃষাণীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সড়ককে ব্যবহার করছেন অস্থায়ী উঠান হিসেবে। এতে সড়কগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা থেকে মওলানা ভাসানী সেতু পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার গ্রামীণ হাইওয়ে সড়কে ধান ও ভূট্টা মাড়াই এবং শুকানোর দৃশ্য এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে ফসল শুকাতে না পেরে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন সড়কজুড়ে ছড়িয়ে রাখা হচ্ছে ধান, ভূট্টা ও খড়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে।
উপজেলার ধুমাইটারী গ্রামের বাসিন্দা এরশাদুল ইসলাম বলেন, “বাড়িতে পর্যাপ্ত উঠান না থাকায় বাধ্য হয়ে সড়কে ধান-ভূট্টা শুকাতে হচ্ছে। এটি অন্যায় হলেও উপায় নেই। তবে এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে।”
ব্যাটারিচালিত মিশুক অটোচালক হাসু মিয়া বলেন, “মৌসুম এলেই গ্রামাঞ্চলের সড়কে চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে। ধান ও খড়ের ওপর দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে ব্রেক করলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। হর্ণ দিলেও অনেক সময় সাইট পাওয়া যায় না।”
মোটরসাইকেল চালক ও শিক্ষক সুমন মিয়া জানান, “কাঁচা-পাকা ও গ্রামীণ হাইওয়ে সড়কে ধান-ভূট্টা শুকানোর কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ধুলাবালির কারণে পথচারীদের চোখ ও নাকে সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠও কৃষকদের দখলে চলে গেছে।”
দহবন্দ ইউনিয়নের অজিত কুমার রায় বলেন, সড়কে ধান-খড় শুকানোর কারণে হাঁটাচলা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
এ বিষয়ে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, কৃষক-কৃষাণীদের সবদিক বিবেচনা করে কাজ করা উচিত। বর্তমানে তারা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, অনেক কৃষকের বাড়িতে উঠান না থাকায় তারা সড়ক ব্যবহার করছেন। তবে এটি ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুচিত। সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। পাকা ও গ্রামীণ হাইওয়ে সড়কে ধান ও খড় শুকানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।