জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক দেওয়া বিভ্রান্তিকর ও মনগড়া বিবৃতিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। রোববার সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত যে বক্তব্য দেয়, তা ‘বাস্তবতাবিবর্জিত, রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং জনমত বিভ্রান্তের অপচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে এনসিপি। সোমবার সন্ধ্যায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৬ ডিসেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্স (এনপিএ)-এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার যে প্রমাণভিত্তিক বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ তথ্যসম্মত ও দায়িত্বশীল। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী গণসংযোগে গুলি চালানো তুষার মণ্ডল যে জামায়াতে ইসলামী ঘরানার কর্মী, তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে এবং অস্ত্র-গুলিসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এমন প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বাস্তবতা অস্বীকার করার চেষ্টা সত্য গোপন ও দায় এড়ানোর নিন্দনীয় প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করে এনসিপি।
এনসিপি আরও জানায়, জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিভাজন, ঘৃণা ও সহিংসতার রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে গ্রহণ না করে তারা পুরোনো সহিংস ও আধিপত্যবাদী পথের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাইছে, যা দেশের জন্য উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগাম জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসতা, অস্ত্রনির্ভরতা ও ধর্মের অপব্যবহার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থি।
এনসিপি জামায়াতকে সত্য ও শান্তির পথে ফিরে এসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।