রাজধানী ঢাকায় আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার এই কম্পনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূপৃষ্ঠের ৩০ কিলোমিটার গভীরে টঙ্গী থেকে ৩৩ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে এবং নরসিংদীর মাত্র ৩ কিলোমিটার উত্তরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল।
এর তিন দিন আগে, সোমবার দিবাগত রাতে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী সেই কম্পনে ক্ষয়ক্ষতির খবর না পাওয়া গেলেও মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিনের আরেকটি ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার, যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯।
এরও আগে ২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। নরসিংদীর মাধবদী কেন্দ্র করে হওয়া সেই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এতে তিন জেলায় মোট ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং শতাধিক মানুষ আহত হন।
নরসিংদীতে সবচেয়ে বেশি পাঁচজন মারা যান। নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে ইট পড়ে দেলোয়ার হোসেন ও তার ছেলে ওমর ফারুক মারা যান। আতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নিহত হন নাসির উদ্দিন। গাছ থেকে পড়ে প্রাণ হারান ফোরকান এবং মাটির ঘরের নিচে চাপা পড়ে মারা যান কাজম আলী ভূঁইয়া।
ঢাকায়ও চারজনের মৃত্যু ঘটে। পুরান ঢাকার বংশালে পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে রাফিউল ইসলাম, হাজী আব্দুর রহিম ও মেহরাব হোসেন রিমন নিহত হন। মুগদা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং ধসে মারা যান নিরাপত্তাকর্মী মাকসুদ।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে নিহত হয় এক বছর বয়সী শিশু ফাতেমা। মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় ভূমিকম্পের মুহূর্তে রাস্তার পাশের ইটের দেয়াল ধসে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আহত হন শিশুটির মা এবং এক প্রতিবেশী।
ক্রমাগত ভূমিকম্প, বিশেষ করে ঢাকায় ঘন ঘন কম্পন, বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। তাদের মতে, ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি থেকে বাংলাদেশ এখনো মুক্ত নয়, তাই প্রস্তুতিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।