বৈষম্য দূরীকরণে স্বাস্থ্যসেবাকে রাজধানীকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণের কাজ শুরু করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও উন্নত ল্যাবসহ স্বাস্থ্যসেবার বড় অংশ এখনো রাজধানীকেন্দ্রিক, যা পরিবর্তন করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন রোগীর জন্য চিকিৎসকের উপদেশ ও মানবিক আচরণ অনেক সময় ওষুধের মতোই কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই চিকিৎসকদের শুধু পেশাগত দক্ষতা নয়, মানবিক দিক থেকেও উন্নত হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশ হলেও যুক্তরাজ্যের মতো রাষ্ট্রও তাদের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা (এনএইচএস) পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি নিজ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ সময় অবস্থানের সময় এনএইচএস ব্যবস্থাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতের পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বড় ধরনের সম্পদের প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজন সঠিক মানসিকতা ও ইচ্ছাশক্তি। রোগীদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করা গেলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি আরও একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে বলেন, বগুড়ায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশের প্রস্তুতির সময় নিজে শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করে ইট বিছানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে অল্প সময়েই সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অন্য একটি ঘটনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি তার বাসার গৃহপরিচারিকার এক আত্মীয় অসুস্থ হলে হাসপাতালে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করা হয়। তবে তিনি মন্তব্য করেন, এমন সুযোগ সবাই সমানভাবে পায় না, যা স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যের একটি দিক নির্দেশ করে।
তিনি বলেন, দেশের সব নাগরিকের জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে শক্তিশালী করা হলে এই বৈষম্য অনেকাংশে কমে আসবে।