বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। এই পরিস্থিতিতে মাকে দেখতে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার থেকে গুঞ্জন শুরু হয় যে তারেক রহমান যুক্তরাজ্য থেকে দেশে রওনা দিয়েছেন। যদিও বিএনপি বা অন্য দায়িত্বশীল কোনো সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেননি, তথাপি বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে তিনি কাতার এয়ারওয়েজের মাধ্যমে দেশে আসবেন। বিমানবন্দর ও হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং তার হেলিকপ্টার দ্বারা হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তারেক শিগগিরই দেশে ফিরবেন, তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি। দলের সিনিয়র নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়ির নীরব প্রস্তুতি থেকে ধারণা করা যাচ্ছে, এই সপ্তাহেই তারেক দেশে পৌঁছতে পারেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরায় কোনো বাধা নেই।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর রাতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে বুকে সংক্রমণ ধরা পড়ায় ভর্তি করা হয়।
যুক্তরাজ্যের চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল টিম ইতোমধ্যেই এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেছে। তারা সিসিইউতে গিয়ে বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং স্থানীয় মেডিক্যাল টিমের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল, যার মধ্যে পাঁচটিতে সাজাও হয়েছিল। বিএনপি দাবি করে এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আদালতের মাধ্যমে সব মামলার অভিযোগ থেকে তিনি মুক্তি পান।