ঢাকায় এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও গ্রামাঞ্চলে তা গড়ে ১৪ ঘণ্টায় পৌঁছে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, গ্রামে বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। ফলে গ্যাস না থাকলে সাধারণ মানুষের রান্না করারও কোনো উপায় থাকে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নিজের প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বৈষম্য দিন দিন প্রকট হচ্ছে এবং এর ভুক্তভোগী হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষ।
গ্যাস সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা আশুগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী। সেখানে সার কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মিল ও বিভিন্ন ফ্যাক্টরি রয়েছে। অথচ গ্যাস সরবরাহে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সারাদেশে যায়, কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষই গ্যাস পায় না।
তিনি উল্লেখ করেন, তিতাস গ্যাস ফিল্ড বাংলাদেশের অন্যতম বড় গ্যাস কেন্দ্র, যেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। তবে তার এলাকায় সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। চুলা খুব কম জ্বলে এবং এরপর মাঝে মাঝে এক ঘণ্টার জন্য গ্যাস আসলেও পরে আর পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, দেশে গ্যাস সংকট রয়েছে এবং শীতকালে চাহিদা আরও বেড়ে যায়। পাশাপাশি অবৈধ গ্যাস সংযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৬ সাল থেকে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় এখনও অনেকেই অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করছে। এতে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।