লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর এলিট রাদওয়ান বাহিনীর এক কমান্ডারকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার মধ্যেই বৈরুতে এ হামলার ঘটনা ঘটায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
বুধবার (৬ মে) বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, ওই হামলায় হিজবুল্লাহর এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে হিজবুল্লাহ কিংবা লেবানন সেনাবাহিনী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকণ্ঠে হিজবুল্লাহর অভিজাত রাদওয়ান বাহিনীর এক কমান্ডারকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল ইসরায়েল। ওই চুক্তির পর এটিই বৈরুতে প্রথম ইসরায়েলি হামলা বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো। এতে যুদ্ধবিরতি কার্যক্রম ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে সেনা মোতায়েন রেখেছে এবং সেখানে নিয়মিত হামলাও চালিয়ে যাচ্ছে। পাল্টা জবাবে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে গুলি ও সশস্ত্র ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে চলতি বছর একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির আশা প্রকাশ করেছিলেন। তবে বৈরুতে নতুন করে হামলার ঘটনায় সেই আশার ওপর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর আগে বুধবারই ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর উত্তরে অবস্থিত কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। এতে নতুন করে অভিযান শুরুর ইঙ্গিত মিলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসরায়েল দাবি করছে, উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লেবাননের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করেছে তারা। তবে বৈরুতের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলা চালানোয় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং সংঘাত বড় আকারের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।