যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেল দখলের ইঙ্গিত দিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও কিছু সময় পায়, তাহলে সহজেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারবে এবং ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ‘বিপুল লাভ’ করতে সক্ষম হবে।
চলমান সংঘাতের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে আরও কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। একই দিনে আরেকটি পোস্টে তিনি আবারও ‘তেল দখলের’ প্রসঙ্গ তুলে ধরে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি খুলবে বা ইরানের তেল দখল করা হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা কৌশল প্রকাশ করেননি ট্রাম্প। এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এই এলাকায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সেই দেশেরই সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের ‘তেল দখলের’ মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্য নতুন করে আইনি ও কূটনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
বর্তমানে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থলসামরিক উপস্থিতি নেই। তবে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের দামে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্য যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।