বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা অতিবৃষ্টি, উজানের পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ধসের প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও গত তিন দিনে সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে আগামী সপ্তাহে দেশের উত্তরাঞ্চলের সাত জেলায় আবারও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ১৯ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানিও কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু পয়েন্টে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।