নরসিংদীতে দুই মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ও শিশুটির চাচী ফারজানা আক্তার লতা বেগমকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১১ নরসিংদী ক্যাম্পের কমান্ডার মো. আরিফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি মাধবদী থানার একটি এলাকায় দুই মাস বয়সী শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পায়ে গুরুতর আঘাত করার অভিযোগে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই র্যাব-১১-এর সিপিএসসি-৩ নরসিংদী ক্যাম্প গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে। ছায়া তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন সূত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মামলার প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার (লতা) আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রূপগঞ্জ থানার একটি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত লতা বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে মাধবদী থানায় হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে, শিশুটির ওপর অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গত ১৪ জুলাই রাতে নরসিংদীর প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় লতা বেগম ছাড়াও তার স্বামী কাউছার আহমেদ এবং পিতা আলমাছ মিয়াকে আসামি করা হয়।
এ ঘটনায় এরই মধ্যে লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ ও তার পিতা আলমাছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই লতা বেগম পলাতক ছিলেন।