দেশে সরকারিভাবে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তিনি বলেছেন, পাটশিল্প খাতে সরকারি নীতি সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল-এর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানান পাটমন্ত্রী। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)-এর আওতাধীন ২৫টি পাটকলের মধ্যে বর্তমানে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু রয়েছে। সরকার ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে অবশিষ্ট মিলগুলোও ধাপে ধাপে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সেগুলো চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পাটশিল্পের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান মন্ত্রী। আগামী ৩০ জুন প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে। এরপর একই ধরনের কার্যক্রম নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, ২০২০ সালের ১ জুলাইয়ের সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং এর মধ্যে ২০টি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারাভিত্তিতে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি উৎপাদনে ফিরেছে।
তিনি আরও জানান, অবশিষ্ট ৬টি মিল ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি মিলের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে, একটি মিলের আগ্রহপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে, একটি মিলের জন্য নতুন করে আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং আরেকটি মিলের ইজারা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ইজারার বাইরে থাকা ৫টি মিলের মধ্যে ৩টি সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় এবং ২টি মিল মামলাজনিত জটিলতার কারণে লিজ প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পাটমন্ত্রী বলেন, সরকার নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকল স্থাপনের পরিবর্তে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার নীতি অনুসরণ করছে। এ খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, উদ্যোক্তাদের জন্য নীতি সহায়তা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে পাটশিল্পকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।