লাকসাম পৌরশহরের পশ্চিমগাঁও এলাকার ‘মজুমদার ডেন্টাল কেয়ার’র স্বত্বাধিকারী এবং তাঁর ছেলেকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের নিন্দা ও প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মো. শাজাহান মজুমদার।
গতকাল রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে পৌরশহরের স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের এক লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে মো. শাজাহান মজুমদার ওইসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।
তাঁর অভিযোগ, একটি কুচক্রীমহল পরিকল্পিত ভাবে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মর্যদাহানীর অপচেষ্টায় ষড়যন্ত্রমূলক বিভিন্নভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন কল্প-কাহিনী সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এ ছাড়া, ওই কুচক্রীমহল তাঁকে এবং তাঁর ছেলেকে জড়িয়ে থানা ও আদালতে একাধিক মিথ্যা মামলা, জিডি করে তাঁর মান-সম্মানে আঘাত হানছে। শুধু তাই নয়; তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদেরও বিভ্রান্তির অপচেষ্টা করছেন।
তিনি জানান, ওই কুচক্রীমহল শনিবার (১৩ জুন) তাঁকে এবং তাঁর ছেলেকে জড়িয়ে থানায় দায়ের করা জিডি ও আদালতে দায়ের করা মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। যা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার অপচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। ওই চক্রটি গণমাধ্যমকর্মীদের অসত্য তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করে বিভ্রান্ত করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মো. শাহজাহান মজুমদার রবিবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনারা কোনো রকম ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক কাগজপত্র, তথ্য-উপাত্ত খুঁজলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
মো. শাহজাহান মজুমদারের অভিযোগ, পৌরশহরের গাজিমুড়া গ্রামের জনৈকা ফারহানা মাহমুদা ঝর্ণা নামে এক নারী কে বা কারো ইন্ধনে তাঁর এবং তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১১ মে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১০ এপ্রিল, ১৫ এপ্রিল এবং ২০ এপ্রিলের চারটি ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ ওই নারী গত ২২ এপ্রিল লাকসাম থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর মেয়ে শাহিনুর আক্তার গত ২০ এপ্রিল মশার কয়েল আনার জন্য বাসার সামনের দোকানে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আবার ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনা প্রসঙ্গে ওই নারী দাবি করেন, তাঁর মেয়ে ‘আল-আমিন ইনস্টিটিউট’-এ যাওয়ার পথে অপহৃত হন।
মো. শাহজাহান মজুমদার বলেন, “আমি আইন ও আদালতের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে থানায় জিডি এবং আদালতে মামলা রয়েছে, সেহেতু আমি আইনগতভাবে এটি মোকাবিলা করতে চাই। তবে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট অনুরোধ জানান তিনি।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত ফারহানা মাহমুদা ঝর্ণা নামে ওই নারীর মুঠোফোনে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।