যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী উলাশী জিয়া খালকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৭ এপ্রিল খালটির পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে খালপাড়জুড়ে সৌন্দর্যবর্ধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইতিহাসঘেঁষা এই খালটি ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রথম খনন করা হয়। দীর্ঘদিন অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি তার নাব্যতা হারালেও নতুন করে পুনঃখননের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে ফিরেছে আশার আলো।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে খাল এলাকা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী চেকপোস্ট, বাড়ানো হয়েছে টহল ব্যবস্থা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বহুমুখী পদক্ষেপ।
এদিকে খালপাড়জুড়ে সাজসজ্জার কাজও চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে আলোকসজ্জা, রঙ করা হয়েছে সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, পরিষ্কার করা হয়েছে খালের দুই পাড়। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে পুরো এলাকা নতুন রূপে সাজানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই খালটি এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তারা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে খালটির পূর্ণাঙ্গ পুনঃখনন ও উন্নয়ন কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। এতে করে কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠান সফল করতে প্রশাসনের সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উলাশী জিয়া খালের পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু একটি খালের উন্নয়ন নয়, বরং পুরো অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর তাই শার্শাবাসীর জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে যাচ্ছে।