ক্যাম্পাসে সকল ধরনের সহিংসতা বন্ধ এবং আদর্শিক ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠার দাবিতে ‘সন্ত্রাস বিরোধী মানববন্ধন’ পালন করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া শাখা। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শাখা সভাপতি এইস এম এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারি ফয়জুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফয়জুল ইসলাম বলেন, “একটি সুস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও সন্ত্রাস একসাথে চলতে পারে না। চলমান সহিংস ও মারমুখী রাজনীতি পরিহার করে সংশ্লিষ্ট সক ছাত্রসংগঠনকে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসতে হবে।” তিনি স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে এনামুল হক বলেন, “জাতি আর সন্ত্রাসী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। সময়ের দাবি হলো আদর্শিক ও নৈতিক ছাত্ররাজনীতি। কিন্তু কিছু সংগঠনের মারমুখী অবস্থান ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে।” তিনি সকল সংগঠনকে সহিংসতা ও গোপন তৎপরতা পরিহার করে আদর্শভিত্তিক রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সাবেক সভাপতি আজিজুল্লাহ ফাহিম বলেন; কক্সবাজারে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের হেল্পডেস্কে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “সম্প্রীতি বিনষ্ট করে উগ্রতা প্রদর্শনের পরিণতি কখনোই শুভ হয় না।”
শাখার অর্থ সম্পাদক নোমান আহমেদ বলেন, “সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অরাজকতা নয়, বরং মেধা ও নৈতিকতার বিকাশ দেখতে চায়। ছাত্ররাজনীতি হওয়া উচিত অধিকার আদায়ের হাতিয়ার, ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যম নয়।”
ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “একক আধিপত্যের রাজনীতি অতীতে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পতনের কারণ হয়েছে। আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের মাধ্যমে একটি সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ চাই।”
এছাড়াও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ সাদি, আলিয়া দাওয়াহ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, বিতর্ক ও দক্ষতা উন্নয়ন সম্পাদক কাজী আল-আমিন, পাঠাগার সম্পাদক মিকদাদ মাহমুদ, ক্রীড়া সম্পাদক ইব্রাহীম তালুকদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা আগামী দিনে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং একটি বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।