রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এ শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং কারিগরি দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী প্রযুক্তি উৎসব ‘র তে রোবট’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স সংশ্লিষ্ট সংগঠন (RSR)-এর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৯টায় অডিটোরিয়ামে শুরু হওয়া এ আয়োজন বিকাল ৫টায় সমাপ্ত হয়।
প্রযুক্তিনির্ভর এই আয়োজনজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা যায়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল রেজিস্ট্রেশন ও কিট বিতরণ, উদ্বোধনী পর্ব, অনুপ্রেরণামূলক কী-নোট সেশন, টেক কুইজ, প্রজেক্ট প্রদর্শনী, হার্ডওয়্যার টাচ টেবিল এবং রোবোসকার এক্সিবিশন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্যের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তিনি অংশগ্রহণ করতে পারেননি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. মো. নুরুল ইসলাম। এছাড়া মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান (চিফ অ্যাডভাইজর) এবং এমটিই বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মো. ফিরোজ আলী (অ্যাডভাইজর) অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চিফ অ্যাডভাইজরের বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে অন্যান্য অতিথিরা বক্তব্য প্রদান করেন। প্রধান অতিথির অনুপস্থিতিতে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী বলেন,
“বর্তমান বিশ্বে ক্যারিয়ার গঠনে রোবোটিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে রুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানে অটোমেশন ও সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষ প্রকৌশলীদের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।”
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কী-নোট সেশন। এতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘বিজ্ঞান ও রোবোটিক্সের সাম্প্রতিক প্রবণতা’ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি এমটিই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দ্বীপ কুমার সাহা ‘কঠিন বাস্তবতার জন্য নরম রোবট: জীবপ্রেরণায় আধুনিক সমস্যার সমাধান’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এসব সেশন শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও গবেষণামুখী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করে।
প্রজেক্ট কার্নিভালে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা লাইন ফলোয়ার রোবটসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী স্মার্ট সিস্টেম প্রদর্শন করেন। হার্ডওয়্যার টাচ টেবিলের মাধ্যমে সেন্সর, মোটর ও মাইক্রোকন্ট্রোলারভিত্তিক ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। এছাড়া রোবোসকার এক্সিবিশন এবং ওপেন টেক কুইজ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
দিনশেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।