আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সামরিক পদক্ষেপ নেয় ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ঘাঁটি ও গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় টিটিপি ও সহযোগী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ (আইএসকেপি)-এর সাতটি প্রশিক্ষণ শিবির ও আস্তানায় ‘নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এই পদক্ষেপকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক দিন আগেই সৌদি আরব-এর মধ্যস্থতায় উত্তেজনা প্রশমনের অংশ হিসেবে কাবুল তিন পাকিস্তানি সেনাকে মুক্তি দেয়। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনার পর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার পরিকল্পনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে বিস্ফোরণ এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় সহিংসতা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বান্নু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা নিহত হন। পরদিন বাজাউরে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ১১ সেনা ও এক শিশু নিহত হয়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক।
এদিকে কাবুলের তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে আফগানিস্তান বরাবরই পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর সুযোগ কোনো গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়নি।