সিরাজগঞ্জ জেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধান ও চাল সংগ্রহে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খাদ্য বিভাগ। ইতোমধ্যেই কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ অভিযান শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
অফিসসূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে মোট ৮৪২ মেট্রিক টন মৌসুমি রোপা আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক ২৭৫ জন মিলারের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী গত ২০ নভেম্বর থেকে উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রতি কেজি ধান ৩৪ টাকা দরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার পুরো ধান সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার সরকারি গুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে এসব ধান সংগ্রহ করা হয়।
অন্যদিকে, চুক্তিভিত্তিক মিলারদের কাছ থেকে প্রতি কেজি চাল ৫০ টাকা দরে প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিক টন চাল ইতোমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলার রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ধান ও চাল সংগ্রহের বরাদ্দ তুলনামূলক বেশি।
তবে শীতজনিত কারণে সংগ্রহ কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গত বছরের তুলনায় এবার ধান ও চাল সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা বেশি বলেও জানিয়েছেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
সিরাজগঞ্জ সদর এলএসডি (গ্রেড-১) এর খাদ্য সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার জেলায় ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কম নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা কম হলেও সরকারি বিধিমতে রোপা আমন ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হারুন অর রশীদ বলেন, চলতি মৌসুমে সরকারি বিধিমতে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ধান সংগ্রহ শেষ হয়েছে এবং আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চাল সংগ্রহ অভিযান শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।