আমদানি নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজস্বভাবে তাহেরকুল জাতের পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করে লাভের মুখ দেখছেন যশোরের শার্শা উপজেলার কৃষকরা। মাঠে ফুটে থাকা সাদা ফুল যেন এক সাদা চাদর। সেই ফুলে মধু নিতে ভিড় করছে মৌমাছি। আর সেই ফুলের যত্নে ব্যস্ত এই কৃষক। কারণ এই সাদা ফুল থেকেই জন্ম নেয় কালো বীজ—যাকে কৃষকেরা বলেন “কালো সোনা
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের সামটা গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী প্রথমবারের মতো পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করছেন। তার জমিতে এখন পেঁয়াজের ফুলে ফুলে ভরে গেছে পুরো ক্ষেত। আর কিছুদিনের মধ্যেই এই ফুল থেকে সংগ্রহ করা হবে বীজ। তাই ক্ষেতের পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
পেঁয়াজের ফুলকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘কদম’। এই কদম থেকেই উৎপাদন হয় পেঁয়াজের বীজ। গত বছর বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের বীজ বিক্রি হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দরে। ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর শার্শা উপজেলায় বেড়েছে পেঁয়াজ বীজের চাষ।
কৃষক ইউসুফ আলী বলেন, আমি এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজের কদম চাষ করেছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভবান হওয়ার আশা করছি। তবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি থাকে বৈশাখ মাসের শিলাবৃষ্টি নিয়ে। শিলাবৃষ্টি হলে পেঁয়াজের কদম নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে এলাকার কৃষকরা বলছেন, এই উন্নত মানের পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে ভালো ফলন ও লাভ হলে আগামী মৌসুমে তারা আরও বেশি জমিতে চাষের পরিকল্পনা করছেন। কৃষকদের আশা, আগামীতে ৭ থেকে ৮ বিঘা জমিতে তাহেরকুল জাতের পেঁয়াজের বীজ চাষ করবেন। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শার্শা উপজেলায় প্রায় ৬ বিঘা জমিতে তাহেরকুল জাতের পেঁয়াজের বীজের চাষ হয়েছে।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা বলেন, এ বছর উপজেলায় পেঁয়াজ বীজের চাষ বেড়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও কদমের ভালো ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।