সশস্ত্র বাহিনী দিবসকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে সশস্ত্র বাহিনী ও সরকারের সম্পর্ক নিয়ে ছড়িয়ে পড়া সব গুজবের অবসান ঘটালেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর স্পষ্ট, সময়োপযোগী ও দৃঢ় বক্তব্য দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করেছে এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি নতুন আস্থা যোগ করেছে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি তাঁর সমর্থন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা তিনটি প্রধান বার্তা দিয়েছেন। প্রথমত, মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও সেই যুদ্ধের ফসল হিসেবে গড়ে ওঠা সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন, যা আন্দোলনের গতি বদলে দিয়েছিল। তৃতীয়ত, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হয়। ইউটিউবভিত্তিক অপতৎপরতার ফলে সেই অপপ্রচার আরও জোর পায়। এমন পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনী দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য ছিল গুজব-প্রতিহতকারী এক সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন, ২৫ মার্চের গণহত্যার রাত থেকেই সশস্ত্র প্রতিরোধের শুরু এবং বিজয় ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের ভাগ্য হতো ভয়াবহ—এই ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গ যেন ভুলে না যাই।
জুলাই বিপ্লবের সময় সশস্ত্র বাহিনী জনগণের ওপর গুলি না চালানোর যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটিকেই নতুন করে গুরুত্ব দিয়েছেন ড. ইউনূস। আন্দোলনে তাদের দৃঢ় অবস্থানই জনজাগরণকে ত্বরান্বিত করেছিল। আজও তাদের সেই অবদানের মাহাত্ম্য অস্বীকারের চেষ্টা চলছে—এমন পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রশংসাসূচক বক্তব্য ছিল সময়োচিত ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে; কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। চাঁদাবাজি, মব সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রের দৌরাত্ম্য এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের তৎপরতা নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে। পুলিশ বাহিনীও পূর্ণ সক্ষমতায় নেই। ফলে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এখন সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারি ভূমিকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। প্রধান উপদেষ্টার ভাষায়, আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে একটি বড় অধ্যায়, এবং সশস্ত্র বাহিনীই পারে ভোটের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে।
এছাড়া সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের হাতে ‘সেনাবাহিনী পদক’ তুলে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সরকারের আস্থার বাস্তব প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন বলে বিশ্লেষকদের মত। এর মাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশ্যও ভেস্তে গেছে।
সব মিলিয়ে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দৃঢ় সংকল্প নিয়েই এগোচ্ছেন—নির্বিঘ্ন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করে একটি বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই সরকারের অগ্রযাত্রা।