জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ শ্রমের সঙ্গে যুক্ত হলেও শ্রমিকদের অধিকার এখনও পর্যন্ত তাদের কাছে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত শ্রমিকদের মজুরি অত্যন্ত নিম্নমানের এবং এই মজুরি দিয়ে ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে শ্রমিকরা পরিবারকে সঠিকভাবে ভরণপোষণ করতে ব্যর্থ হন।
শুক্রবার (১ মে) শাহবাগে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, শ্রমিকদের সন্তানেরা নিম্ন জীবনমানের কারণে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় এবং নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগও পায় না। ফলে তাদেরকেও শ্রমিকের কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়। তিনি দাবি করেন, শ্রমিকদের জীবনে এই পরিস্থিতি বংশানুক্রমিকভাবে চলতে থাকে এবং সমাজে কোনো রূপান্তর সম্ভব হয়ে ওঠে না।
বাংলাদেশের অর্থনীতি খাদের কিনারায় পৌঁছেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা অর্থনীতি লুটপাটে জড়িত ছিল তাদের আবারও একীভূত হওয়া ব্যাংকের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রেখে একটি আইন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, যেসব লুটেরা হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে তারা মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ অর্থ ফেরত দিলেই ব্যাংকের মালিকানা ফিরে পেতে পারে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
আখতার হোসেন আরও বলেন, শ্রমিকদের তুচ্ছার্থে তুই সম্বোধন করা উচিত নয়। তাদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে এবং কথা বলার ক্ষেত্রেও সম্মান দেখাতে হবে।
এদিকে সমাবেশে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কায়িক শ্রমের মাধ্যমে অর্থনীতি সচল রাখে। তিনি জানান, গার্মেন্টস খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন, যারা মোট জনসংখ্যার ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ হলেও রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ তাদের শ্রমে অর্জিত হয়।
তিনি বলেন, এত অবদান থাকা সত্ত্বেও অনেক শ্রমিকের ন্যূনতম জীবনমান নিশ্চিত নয়। কারও ঘর নেই, কারও রান্নার সুবিধা নেই, অনেকের খাবার জোগাড় করাও কঠিন। অথচ তাদের শ্রমের ওপর ভর করেই দেশের বড় বড় উন্নয়ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।